সাতক্ষীরার ইছামতি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে হাজারো মানুষের ঢল


639 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরার ইছামতি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেখতে হাজারো মানুষের ঢল
অক্টোবর ১৯, ২০১৮ দেবহাটা ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

*বিজিবি ও বিএসএফ’র কড়া নজর দারী

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা ::

হিন্দু ধর্মের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গাপূজার শুক্রবার ছিল বিসর্জনের দিন। সেই উপলক্ষ্যে দেবহাটার ইছামতি নদীতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো বিজয়া দশমী।

এবছর নদীতে নৌকা চললেও তবে সেটা ছিল স্ব স্ব সীমারেখার মধ্যে। বাংলাদেশ ও ভারতের কোন নৌকা নিজেদের সীমারেখা অতিক্রম করতে পারেনি। আর এজন্য ছিল বিজিবি ও বিএসএফের কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টনী। তবে উভয় দেশের নিরাপত্তা বাহিনীর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারনে বিজয়া দশমীতে কিছুটা ম্লান ভাব লক্ষ্য করা গেছে। বিজয়া দশমীতে দেবহাটা উপজেলার সীমান্ত নদী ইছামতিতে স্ব-স্ব জলসীমানার মধ্যে থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিতে হয়েছে। এরফলে তেমন জাক-জমক পূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি শত বছরের ঐতিহ্যবাহী দুই বাংলার মানুষের মিলনমেলা। দুপুর থেকে ইছামতি নদীর দু’পারে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হলেও স্ব স্ব জলসীমার মধ্যে নৌকা ভাসানোর কারনে দুই বাংলার মানুষের মিলন মেলায় কিছুটা হলেও ভাটা পড়ে।

তবে এবারের এ প্রতিমা বিসর্জনের মিলন মেলায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ আ.ফ.ম রুহুল হক এমপি, সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার সাজ্জাদুর রহমান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল আসাদ, এএসপি সার্কেল শেখ ইয়াছিন আলী ও দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ আব্দুল মান্নান প্রমুখ। কয়েকজন জানান, দেশ বিভাগের অনেক আগে থেকেই বিজয়া দশমীতে উভয় পারের মানুষেরা আয়োজন করে আসছিল মিলনমেলার। দেশ বিভাগের পরেও বাধা হয়ে দাড়ায়নি ইছামতি নদীর এই জলসীমা রেখা। বিভিন্ন সময়ে নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বন্ধ হয়নি মিলনমেলা। প্রতিবছর শুধুমাত্র উভয় পারের মানুষ নয়, বরং বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন মানুষ এই এলাকায় হাজির হতো শুধুমাত্র ভেদাভেদ ভুলে দিনটিতে আনন্দ উপভোগ করার মানষে। উভয় দেশের মানুষ আত্মীয় স্বজনদের সাথে দেখা করে কিছুটা শান্তি নিয়ে ফিরে যেতো আপন আপন ঠিকানায়। কিন্তু এবারের মিলনমেলায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। যার কারনে এক দেশের মানুষ অন্য দেশে যেতে পারেনী। ইছামতি নদীর মাঝ বরাবর ছিল বিজিবি ও বিএসএফের কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারী। এবছর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসনকে অতিরিক্ত পুলিশ সহ নানারকম ব্যবস্থা গ্রহন করতে হয়েছিল। গত ৩/৪ বছর আগে এক মর্মান্তিক নৌকা দূর্ঘটনায় ভারতের কলকাতার যাদবপুর ইন্ডিয়ান ইনষ্টিটিউিট অব ক্যামিক্যাল বায়োলজির জুনিয়র রিসার্স ফেলো সুজয় দাশ (২৮) মৃত্যুবরন করেন। এ ঘটনায় সেসময় ভারতের মিডিয়ায় মিলনমেলা সম্পর্কে অনেক নেতিবাচক কথা তুলে ধরা হয়। সেসময় থেকে এই মিলনমেলা আয়োজনে ভাটা পড়ে। তবে এবছর বাংলাদেশের টাউনশ্রীপুরে নদীর পাশে একটি প্যান্ডেল করা হয়। এবারও দুই বাংলার সীমান্ত জুড়ে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হলেও তারা মিলন মেলার উৎসবে মেতে সেভাবে উঠতে পারেনি। দু’দেশের সীমান্তরক্ষীদের কঠোর নজরদারি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করায় ইছামতি নদীতে নৌকা, লঞ্চ নিয়ে স্ব স্ব জলসীমার মধ্যে আনন্দ উৎসবে মেতে উঠতে হয়েছে।

এ ব্যাপারে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ আল আসাদ জানান, সীমান্ত নদী ইছামতিতে স্ব স্ব জলসীমানার মধ্যে থেকে প্রতিমা বিসর্জন দিলেও দুই বাংলার মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে মিলন মেলার আনন্দ উপভোগ করেছেন। তিনি আরো জানান, এর আগে গত ১৪ অক্টোবর উভয় দেশের সীমান্ত এলাকায় সীমান্তবর্তী জনসাধারনের অবাধে গমণাগমন, বিচরনসহ যে কোন প্রকার অনাকাঙ্খিত দূর্ঘটনা রোধকল্পে কোম্পানী কমান্ডার পর্যায়ে এই পতাকা বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠক থেকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, শারদীয় দূর্গাপূজা বিসর্জনের দিন উভয় দেশই সীমান্ত নদী ইছামতিতে নিজেদের সীমানায় দূর্গা বিসর্জন দেবেন। নদীর মাঝ বরাবার লাল ফিতা টানানো থাকায় নৌকা বা ট্রলার নিয়ে কেউ কোন সীমান্ত অতিক্রম করবেনা। স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের অনুমতি নিয়ে ইছামতি নদীতে নামতে হবে। বিকেল ৫ টার পর কেউ নৌকা ও ট্রলার নিয়ে আর নদীতে থাকতে পারবেনা।