সাতক্ষীরায় পেঁপে চাষে সাফল্য


206 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় পেঁপে চাষে সাফল্য
অক্টোবর ২২, ২০১৮ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

*শিক্ষাকতার পাশাপাশি সবজি হিসাবে পেঁপে চাষ করে সফল সুকুমার মন্ডল

মোঃ ফয়জুল হক বাবু ::

পেঁপে বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান ফল। কাঁচা পেঁপে সবজি হিসেবে এবং পাকা পেঁপে ফল হিসেবে বেশ সমাদর রয়েছে। পুষ্টিমানে অত্যন্ত সমৃদ্ধ এই ফল মানব দেহে রোগ প্রতিরোধে কাজ করে। বিশেষ করে পাকস্থলী ক্যান্সার নিরাময়ে কাঁচা পেঁপে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই চাহিদার প্রয়োজনে বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপের চাষ করে নিজেদের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে। এমনই একজন সফল পেঁপে চাষী হিসাবে নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছেন সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার পাটুলীয়া গ্রামের একজন স্কুল শিক্ষক সুকুমার মন্ডল। তিনি শিক্ষাকতার পাশাপাশি পেঁপে চাষ করে সফলতার অর্জন করেছেন। শিক্ষাকতার পরে অবসর সমটুকু অবহেলায় না কাটিয়ে কিছু একটা করার প্রায়াসে নিজ উদ্দ্যোগে তিন বিঘা জমির উপর এই পেঁপে বাগান তৈরি করেন এবং সফলতার মুখ দেখেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যেহেতু আমি শিক্ষাকতা করি, শিক্ষাকতার পরে আমার হাতে যতটুকু সময় থাকে সে সময়টুকু কাজে লাগিয়ে শিক্ষাকতার কোন রূপ ক্ষতিসাধিত না করে কি ভাবে আর্থিক লাভবান হওয়ার যায়, সেই চিন্তা থেকে আমি ঠিক করলাম পেঁপে বাগান করার। পেঁপে চাষ করতে সময় ও শ্রম দুটোয় কম লাগে এবং রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমন কম হয়। অন্যান্য সবজী চাষের তুলনায় খরচ ও কম হয়, ফলে পেঁপে চাষে লোকসান হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললে চলে। কারন পেঁপের সাথে সাথী ফসল হিসাবে সবজী চাষ করা যায়। তিনি জানান, ভাল ফলন পেতে হলে সামন্য কিছু পরিচর্যা করলেই হয়। বাগান কে সব সময় আগাছা মুক্ত রাখতে হয় এবং প্রতিবার ফল ভাঙ্গার পরে প্রয়োজনীয় মাত্রায় সার প্রায়োগ করতে হবে। শুষ্ক মৌসুমে সামন্য পানি সেচ দিতে হবে, আর খেয়াল রাখতে হবে যেন গাছের গোড়ায় পানি না জমে, কারণ পেঁপে গাছ পানি সহ্য করতে পারেনা। তিনি আরও বলেন, একবার গাছ লাগালে তিন বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। চারা রোপনের ৫ মাস পর থেকে ফল সংগ্রহ করা যায়। তিনি প্রতিবারে ১৫০ থেকে ২০০ মন পেঁপে সংগ্রহ করেন বলে জানান।


স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার সহযোগিতার ব্যাপারের জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সম্পূর্ন নিজ উদ্দ্যেগে এই পেঁপে বাগান তৈরি করেছি। স্থানী কৃষি কর্মকর্তার কাছে যাওয়ার প্রয়োজন পড়েনি বা তারা কখনও আসেনি। আমি নিজে পেঁপের বীজ থেকে চারা উৎপাদন করে বাগানে রোপন করেছি এবং এতে আমার মাত্র ২৫০০ টাকা মত খরচ হয়েছে।
বর্তমানে সুকুমার মন্ডলের বাগানে ১,২০০ পেঁপে গাছ আছে। তিনি প্রতি ১৮-২২ দিন পরপর পেঁপে গাছ থেকে ফল সংগ্রহ করেন যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করেন। তিনি তার পেঁপে বাগানে সাথে সাথী ফসল হিসাবে হলুদ ও ঝাল চাষ করেছেন। যেখান থেকে তিনি অনেক লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।
সুকুমার মন্ডলের পেঁপে বাগান দেখে একই গ্রামের মাখন বিশ্বাস নামক একজন ব্যাক্তি উদ্বুদ্ধ হয়ে পনের শতক জমির উপরে পেঁপে বাগান তৈরি করে ভাল ফলন পেয়েছে বলে জানান।
সুকুমার মন্ডলের পেঁপে বাগান সম্পর্কে জানতে চাইলে কলারোয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মহাসিন আলী বলেন, ঐ এলাকার দায়িত্ব প্রাপ্ত কৃষি কর্মকর্তা তার বাগান পরিদর্শণ করেছেন এবং তার বাগানের ফলন দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সহযোগিতার ব্যাপারে তিনি বলেন, তাকে আর্থিক ভাবে সহযোগিতা না দিতে পারলেও প্রযুক্তিগত ও নির্দেশনা মুলক সকল সহযোগিত কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে দিয়েছি এবং সবসময় দেওয়া হবে। কর্মের প্রতি আগ্রহ ও প্রচেষ্টাই তার সফলতার মুল কারন বলে মনে করেন এই কর্মকর্তা। তিনি আরও বলেন, পেঁপে চাষের জন্য বেশি জায়গারও প্রয়োজন হয় না। বাড়ির আঙ্গিনায় দু’চারটি গাছ লাগালে তা থেকে সারা বছর সবজি ও ফল পাওয়া যায়।
##