যন্ত্র জানাবে অজ্ঞাত লাশের পরিচয়


49 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
যন্ত্র জানাবে অজ্ঞাত লাশের পরিচয়
অক্টোবর ২৩, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

*পুলিশে যুক্ত হচ্ছে নতুন প্রযুক্তি

অনলাইন ডেস্ক ::

মহাখালীর আইসিডিডিআর’বি হাসপাতাল এলাকায় মুমূর্ষু অবস্থায় পড়েছিলেন এক বৃদ্ধ। বনানী থানা পুলিশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় তাকে। সেখানে গত ১৬ অক্টোবর মৃত্যু হয় তার। এ পর্যন্ত নাম-পরিচয় কিছুই জানা যায়নি। ফলে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের প্রস্তুতি চলছিল লাশটি। এর মধ্যে ‘ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার মেশিন’ দিয়ে তার আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়। মুহূর্তেই জানা যায় তার পরিচয়- নাম আবদুল মান্নান মুন্সী। বয়স ৬১ বছর। বাবার নাম নাজির উদ্দিন মুন্সী, মায়ের নাম আমেনা খাতুন। মাদারীপুর সদরের মহিষের চর এলাকায় তার বাড়ি।

বেশ কিছু অজ্ঞাতপরিচয় লাশ এভাবে যন্ত্রের মাধ্যমে শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে ইদানীং। আপাতত পরীক্ষামূলকভাবে চলছে এই কার্যক্রম। পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক হলে অদূরভবিষ্যতে আনুষ্ঠানিকভাবে এ যন্ত্র ব্যবহার করবে পুলিশ। এতে লাশ শনাক্তের ক্ষেত্রে জটিলতা কমবে। কম সময়ে জানা যাবে মৃত ব্যক্তির পরিচয়। এমনকি গ্রেফতারকৃত আসামি মিথ্যা নাম-পরিচয় বললে সেটাও তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা যাবে। এতে মামলার তদন্ত ও সংশ্নিষ্ট অন্যান্য কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন পুলিশ কর্মকর্তারা।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার বলেন, ‘আড়াই বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে। এটির মাধ্যমে হাতের ছাপ নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যভাণ্ডার থেকে ওই ব্যক্তি সম্পর্কে জানা যায়।’

পিবিআই ঢাকা মহানগর অঞ্চলের বিশেষ পুলিশ সুপার আবুল কালাম আজাদ জানান, পিবিআই সদর দপ্তরের সরবরাহ করা ফিঙ্গারপ্রিন্ট স্ক্যানার মেশিন দিয়ে তারা পরীক্ষামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এতে আশাব্যঞ্জক ফল আসছে। গত ২১ অক্টোবর পিবিআইর পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম ও মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা এবং এসআই ফরিদ উদ্দিন ঢামেক মর্গে যন্ত্রটির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করেন। এ সময় ঢাকা রেলপথ থানা ও বনানী থানা পুলিশের উদ্ধার করা দুটি লাশের আঙুলের ছাপ নিয়ে তাদের পরিচয় উদ্ঘাটন করেন তারা। এরপর বনানী থানা এলাকায় মৃত আবদুল মান্নান মুন্সীর বিষয়ে মাদারীপুর সদর থানার ওসিকে অবহিত করা হয়। তার মাধ্যমে খবর পেয়ে মৃতের ভাগ্নে সেলিম ঢাকায় এসে মামার লাশ গ্রহণ করেন। তিনি জানান, মৃতের মেয়ে ইসমত আরা উত্তরার আজমপুর এলাকায় থাকেন এবং পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। মৃত্যুর ১০/১২ দিন আগে মেয়ের বাসায় বেড়াতে আসেন আবদুল মান্নান মুন্সী। ১৫ অক্টোবর সকালে তিনি মেয়ের বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ ছিলেন।

অন্যদিকে ঢাকা রেলপথ থানার ঘটনায় মৃত ব্যক্তির নাম রিপন ও বাড়ি বগুড়া বলে আগেই জানা গিয়েছিল। কিন্তু বিস্তারিত পরিচয়ের অভাবে তার লাশটিও স্বজনদের কাছে পৌঁছেনি। পিবিআই’র পরিদর্শক মোহাম্মদ জুয়েল মিঞা জানান, ১৯ অক্টোবর রাতে রেললাইনে রিপনকে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয় তার। আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে জানা যায়, তার পুরো নাম রিপন শেখ, বাবা জুলমাত আলী, মা রোকেয়া খাতুন ও স্ত্রী সুমাইয়া খাতুন। তার গ্রামের বাড়ি বগুড়ার ধুনট থানার গোবিন্দপুর এলাকায়।