সাতক্ষীরা-৩ : নির্বাচনী মাঠে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী


405 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরা-৩ : নির্বাচনী মাঠে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থী
নভেম্বর ১৩, ২০১৮ দেবহাটা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

আর.কে.বাপ্পা, দেবহাটা ॥
আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এই আসনে কে কোন দলের প্রার্থী হচ্ছেন এ ব্যাপারে সর্বত্র চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন ও তুমুল আলোচনা। প্রার্থীদের পক্ষের নেতাকর্মীরা তাদের পক্ষের প্রার্থীর মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে জোর প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন। গ্রামে গঞ্জে, চায়ের দোকানে, দলীয় কার্য্যালয় সহ সর্বত্র চলছে প্রচার প্রচারনা, তর্ক ও দলীয় প্রার্থীর পক্ষে গুনগান।

দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন, আশাশুনি উপজেলার ১১ ইউনিয়ন ও কালিগঞ্জ উপজেলার ১২ ইউনিয়নের মধ্যে ৪ ইউনিয়ন (মোট ২১ টি) নিয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসন গঠিত। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে এই আসনে নৌকা প্রতীক পাওয়ার জন্য গণসংযোগ চালানোর পর ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন ৩ হেভিওয়েট প্রার্থীসহ প্রায় এক ডজন প্রার্থী। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তিন প্রার্থী হলেন বর্তমান সংসদ সদস্য সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী অধ্যাপক ডাঃ আ ফ ম রুহুল হক, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি একাধিকবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য মনসুর আহমেদ ও নতুন মনোনয়ন প্রত্যাশী নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি, খুলনার উপাচায ড. আবু ইউসুফ মোঃ আব্দুল¬াহ। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন শৈল্যচিকিৎসক অধ্যাপক আ ফ ম রুহুল হক নবম সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের। নবম ও দশম সংসদ নির্বাচনে পরপর দুই মেয়াদে নির্বাচিত হয়ে তিনি এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী থাকাকালে তিনি দেশের জন্য এমডিজি পুরস্কারসহ বেশ কিছু আন্তর্জাতিক পুরস্কার বয়ে আনার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো সক্রিয় করেছেন। তার প্রচেষ্টায় নির্মিত হয়েছে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও নলতা ম্যাটস ও নার্সিং ইনস্টিটিউট।

এছাড়াও সড়ক, বিদ্যুতায়ন ও অবকাঠামোগত অনেক উন্নয়ন দৃশ্যমান। তবে হেভিওয়েট এই প্রার্থীর শক্ত প্রতিপক্ষ হিসেবে নির্বাচনের মাঠে রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইবিএ’র অধ্যাপক ও নর্দান ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজি খুলনার উপাচার্য ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল¬াহ। দীর্ঘদিন যাবত তিনি সরকারের উন্নয়ন প্রচারে মোটর শোভাযাত্রা করে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি ইফতার সামগ্রী বিতরণ, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুদান প্রদান করছেন। আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নানা ভাবে সহায়তা করে অল্পদিনেই তিনি দলীয় নেতা-কর্মী, মুক্তিযোদ্ধা, সুধীসমাজ ও সাধারণ মানুষের মনে আস্থার জায়গা তৈরী করে নিজেকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে গেছেন। এজন্য নৌকার মনোনয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল¬াহ ভাল অবস্থানে রয়েছেন বলে দাবি করছেন দলটির একাংশ। এছাড়াও এই আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নের অন্যতম দাবিদার সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক মুনসুর আহমেদ। প্রবীন এই নেতা দলের দু:সময়ের কান্ডারী। এছাড়া জাপা ও বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে তিনি এ আসন থেকে নৌকা প্রতীক নিয়ে পর পর দুইবার এমপি নির্বাচিত হন। এজন্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের কাছে তার যথেষ্ঠ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে বলে জানা গেছে। সাতক্ষীরা-৩ আসনে মনোনয়নের জন্য আরও মাঠে রয়েছেন আশাশুনি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ বিএম মোস্তাকিম। তিনি সরকারের নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড তৃণমুলের কাছে তুলে ধরতে উঠান বৈঠক করছেন। দীর্ঘদিন যাবত গণসংযোগ করে নিজের প্রার্থীতার পক্ষে জনমত গড়ে তুলেছেন।

সাবেক সংসদ সদস্য ডা. মোখলেছুর রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা এড. আজহারুল ইসলাম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি বাবুল আফছার, সাতক্ষীরা জর্জ কোর্টের সাবেক এপিপি লুৎফর রহমান, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সহ-সভাপতি গোলাম রসুল বিপ্ল¬বসহ আরও কয়েকজন নেতা আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে জানা গেছে। তবে মনোয়নকে কেন্দ্র করে আশাশুনি, দেবহাটা ও কালিগঞ্জে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভক্তি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে পড়েছে। এই আসনে যিনিই নৌকার মাঝি হবেন তাকে প্রথমেই নেতা-কর্মীদের বিভক্তি দুর করতে উদ্যোগ নিতে হবে। এটা না করতে পারলে জয়ের বন্দরে পৌছানো অনেকটা কঠিন হবে বলে মনে করছেন দলটির ত্যাগী নেতা-কর্মী ও শুভাকাঙ্খীরা। সাতক্ষীরা-৩ আসনে ১৪ দলীয় জোটের শরীক দল জাতীয় পার্টি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি সাবেক এমপি অ্যাডভোকেট স. ম সালাউদ্দিন।

এদিকে বিএনপি’র ধানের শীষ প্রতীক পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেকটা অপ্রতিদ্বন্দ্বি অবস্থানে আছেন ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি ডাঃ শহিদুল আলম। সরকারি চাকুরি ছেড়ে তিনি বিএনপি’র রাজনীতিতে দীর্ঘদিন যাবত সক্রিয় রয়েছেন। দলীয় কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি তিনি সর্বস্তরের মানুষকে দীর্ঘদিন যাবৎ চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করছেন। এক্ষেত্রে তার সুনাম অনেক দিনের। আকষ্মিক কিছু না ঘটলে বিএনপি থেকে ডাঃ শহিদুল আলমই মনোনয়ন পাচ্ছেন বলে নেতাকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। ক্লিন ইমেজের এই নেতা বিএনপি’র পাশাপাশি পপুলার ভোট পেয়ে সাতক্ষীরা-৩ আসন থেকে জয়লাভ করবেন বলে মনে করছেন ২০ দলীয় জোটের কর্মী-সমর্থকরা। এছাড়া ২০ দলীয় জোট থেকে এই আসনে মনোনয়ন চাইতে পারেন বিএনপি নেতা আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সভাপতি ইউপি চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এডঃ বরুন বিশ^াস এবং জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশার। জামায়াতের সাবেক নেতা মরহুম মাওলানা রিয়াসাত আলী এই আসন থেকে ইতোপূর্বে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই অঞ্চলে জামায়াতেরও ভোট ব্যাংক রয়েছে বলে দাবি জামায়াতের তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের। জামায়াতের প্রার্থী এখানে জোট থেকে মনোনয়ন পাবেন বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন তারা। তবে সবদিক মিলিয়ে এই আসনে নির্বাচনকে সামনে রেখে চলছে তুমুল আলোচনা। এখন দেখার বিষয় কে কোন দলের মনোনয়ন পান আর কাকে জনগন নির্বাচিত করে তাদের প্রতিনিধি করে মহান জাতীয় সংসদে পাঠান।