সিডরের ১১ বছর : স্বজনহারাদের চোখের জল যে শুকায়না


145 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সিডরের ১১ বছর : স্বজনহারাদের চোখের জল যে শুকায়না
নভেম্বর ১৪, ২০১৮ দুুর্যোগ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

 

* পদ্মা সাগর আর তুফান পথ চেয়ে থাকে এখনও

বিশেষ প্রতিনিধি :
১৫ নভেম্বরের দানব সিডরের প্রলয়ংকরী তান্ডবের পর স্বজনদের প্রতীক্ষার যেনো শেষ নেই । তাদের চোখের জলও যে আর শুকায় না । সিডরের নির্মম বলি সাতক্ষীরা শহরের কুখরালির জেলে পাড়ার কেনা বৈদ্যের স্ত্রী পদ্মা রানী আর তার দুই সন্তান সাগর ও তুফান এখনও অপেক্ষায় থাকে কখন ফিরবে সাগরে যাওয়া তাদের আপন মানুষটি । ২০০৭ এর সেই ভয়াল থাবার পর থেকে এভাবেই কাটছে বছরের পর বছর । আর প্রাণ নিয়ে ফিরে আসা সাতক্ষীরার সেই সব জেলেরা আজও শিউরে ওঠে সাগর জলে তিনদিন ভাসমান থেকে জীবন রক্ষার স্মৃতি রোমন্থনে ।
মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া দাদনে আটকা পড়া কুখরালির রতন বৈদ্য ও তার ছেলে কেনা বৈদ্য সাগরে ভিন্ন ভিন্ন ট্রলারে মাছ ধরতে যায়। সিডরের আঘাতে রতন বৈদ্য প্রাণে বেঁচে গেলেও চিরদিনের মতো হারিয়ে যায় তার পুত্র কেনা বৈদ্য। রতন বৈদ্য ও তার স্ত্রী শান্তি রানী আজও পুত্র শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন। কেনার স্ত্রী পদ্মা তার দুই ছেলেকে বুকে নিয়ে স্বামীর অপেক্ষায় দিন কাটায়। এখনও তাদের পুরো পরিবার তার পথ চেয়ে থাকে ।
এদিকে সাগরে ভাসমান ড্রামের সাথে নিজেকে রশি দিয়ে বেধে সাত ঘন্টারও বেশি সময় ধরে নিশ্চিত মৃত্যুর সাথে লড়াই করে প্রাণে রক্ষা পাওয়া তালার মালোপাড়ার মিন্টু ও উত্তম সেদিনের স্মৃতি রোমন্থন করতে গিয়ে জানান সিডরের দাপটে তার বাবা ও কাকা গৌর হালদার ও অজিত হালদারের মৃত্যুর দৃশ্য তারা দেখেছেন। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পদ্মপুকুরের খোলপেটুয়া নদীতে শিক্ষক বাবা ইব্রাহীমকে বাঁচাতে গিয়ে সলিল সমাধি হয় পুত্র আইউব আলির ।
সাগর জলে মাছ ধরা ছাড়াও বরগুনা , পটুয়াখালি , পিরোজপুর , বাগেরহাট, দুবলার চর , আলোরকোলসহ নানা স্থানে কর্মরত সাতক্ষীরার ২৩ টি প্রাণ সিডরে সাগরের নীল জল নিভিয়ে দিয়েছিল । সাতক্ষীরায় সিডরের আঘাত জোরালো না হলেও জেলার বাইরে কর্মরত থাকা অবস্থায় তালার অজিত , গৌর , গোবিন্দ , কুড়িকাহনিয়া ও শ্রীপুরের আমিরুল ও লাভলু , বড়দলের সন্যাসী , জয়নগরের লুৎফর রহমান , রসিদ , লালু হালদার , সাঈদুর রহমান, আবদুল , নজিবুল , ফিরোজা , আনারুল , আয়েশা , দাঁতনেখালির আফসার , বড়কুপোটের শামীম হোসেন , খোকন রাজবংশীসহ অনেকেরই জীবন প্রদীপ নিভে যায় । এদের কারও দেহ পাওয়া গেছে । কেউ বা নিখোঁজ । তবু স্বজনরা ভাবেন তারা বেঁচে আছেন । তাদের অপেক্ষায় কাটে দিন মাস বছর ।
সেই ভয়াল স্মৃতি নিয়ে এবারও ১৫ নভেম্বর পার হলো। স্বজনহারা পরিবারগুলির চোখের জল আর শেষ হয় না । তাদের পথ চেয়ে থাকারও যেনো শেষ নেই।