রোহিঙ্গারা রাজি হলে দুপুরেই শুরু প্রত্যাবাসন


80 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রোহিঙ্গারা রাজি হলে দুপুরেই শুরু প্রত্যাবাসন
নভেম্বর ১৫, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক :

মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন কাজে নিয়োজিত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মোহাম্মদ আবুল কালাম বৃহস্পতিবার সকালে সমকালকে এতথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। যদি রোহিঙ্গারা রাজি হয় তবে দুপুর ২টা নাগাদ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে পারবো।’

বুধবার অবশ্য বহুল প্রতীক্ষিত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এক কর্মকর্তা রাতে এ তথ্য জানান।

৫০টি রোহিঙ্গা পরিবারের দেড়শ’ জনকে বৃহস্পতিবার মিয়ানমারে পাঠানোর কথা ছিল। তবে জাতিসংঘ শরণার্থীবিষয়ক সংস্থাকে তারা বলেছে, তারা কেউই মিয়ানমারে ফিরতে চায় না।

জানা গেছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করার জন্য বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই দেশের কর্মকর্তারাই প্রস্তুত। নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম সীমান্তের ট্রানজিট ক্যাম্প দিয়ে প্রত্যাবাসন শুরু করার কথা।

রোহিঙ্গাদের দাবি, রাখাইনে ফেলে আসা বাড়িঘর ফিরে না পেলে এবং নাগরিক অধিকার নিশ্চিত না হলে সেখানে ফিরে যাবে না তারা। এই পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত রাখার পরামর্শ দেয় জাতিসংঘের উদ্বাস্তুবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর।

ইউএনএইচসিআর কক্সবাজার অফিসের মুখপাত্র ফিরাস আল খাতেব বলেন, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন হতে হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদার সঙ্গে। রাখাইনে পরিস্থিতি এখনও রোহিঙ্গাদের জন্য অনুকূল নয়। সেখানে তাদের জন্য স্বাধীন চলাফেরায় বাধা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাখাইনে ফিরে যেতে নিরাপদ মনে করছে না রোহিঙ্গারা।

ইউএনএইচসিআরের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা স্বেচ্ছায় ফিরে না গেলে তাদের বলপূর্বক সেখানে পাঠানো উচিত হবে না। রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি আমরা বাংলাদেশ সরকারের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের অবহিত করেছি। সম্পূর্ণ স্বেচ্ছায় না হলে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন স্থগিত রাখার জন্য পরামর্শ দিয়েছি। এখন দুই দেশের সরকারই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, প্রত্যাবাসন হবে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাভিত্তিক। এ বিষয়ে এখনও কিছু প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সংকট সমাধানে আমরা প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছি। ইউএনএইচসিআরও এ ব্যাপারে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি রোহিঙ্গারা তাদের দেশে নিরাপদে ফিরে যেতে সম্মত হবে।

গত বছরের ২৩ নভেম্বর স্বাক্ষরিত চুক্তিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছিল দুই মাসের মধ্যে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করবে। সে লক্ষ্যে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠিত হয়।

কমিটির প্রথম সভায় প্রত্যাবাসনের জন্য আট হাজার ৩২ জনের একটি তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তালিকা যাচাই-বাছাই শেষে এ পর্যন্ত সাড়ে চার হাজার রোহিঙ্গার বিষয়ে মিয়ানমার ছাড়পত্র দিয়েছে।

ছাড়পত্র দেওয়া এই রোহিঙ্গাদের নিয়ে ১৫ নভেম্বর থেকে প্রত্যাবাসন শুরু করবে বলে মিয়ানমারের পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশও এ বিষয়ে সম্মত হয়। তবে রাখাইনে পরিস্থিতি অনুকূল না হলে রোহিঙ্গারা সেখানে যেতে রাজি নয়। বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে তালিকাভুক্ত অনেক রোহিঙ্গা ইতিমধ্যে ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে গেছে। এতে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারাও পড়েছেন বেকায়দায়।