পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ


113 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) আজ
নভেম্বর ২১, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
আজ ১২ রবিউল আউয়াল বুধবার, পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। প্রায় এক হাজার ৪০০ বছর আগে এই দিনে আরবের মরু প্রান্তরে মা আমিনার কোল আলো করে জন্ম নিয়েছিলেন বিশ্বনবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)। আবার এই দিনে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে যান। এ উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী অনুষ্ঠানমালা। এসব কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মহানবীর (সা.) ওপর আলোচনা, মিলাদ ও দোয়া মাহফিল।

ইসলাম ধর্মমতে, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হজরত মুহাম্মদ (সা.) নবুয়তের সিলসিলায় শেষ নবী। তার জন্ম ও ওফাত দিবস ১২ রবিউল আউয়াল মুসলমানদের কাছে এক পবিত্র দিন। মুসলমান সম্প্রদায় দিনটি পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) হিসেবে পালন করেন।

আইয়ামে জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর করে তৌহিদের মহান বাণী নিয়ে এসেছিলেন এই মহামানব। প্রচার করেছেন শান্তির ধর্ম ইসলাম। তার আবির্ভাব এবং ইসলামের শান্তির ললিত বাণীর প্রচার সারা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টি করে। তিনি ৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভ করেন। এরপর বিশ্ববাসীকে মুক্তি ও শান্তির পথে আহ্বান জানান। সব ধরনের কুসংস্কার, গোঁড়ামি, অন্যায়, অবিচার ও দাসত্বের শৃঙ্খল ভেঙে মানবসত্তার চিরমুক্তির বার্তা বহন করে এনেছিলেন তিনি। এরপর মহানবী (সা.) দীর্ঘ ২৩ বছর এ বার্তা প্রচার করে ৬৩ বছর বয়সে ইহলোক ত্যাগ করেন।

ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, আল্লাহর প্রতি অগাধ প্রেম ও ভালোবাসা, অনন্যসাধারণ ব্যক্তিত্ব, অনুপম চারিত্রিক গুণাবলি, অতুলনীয় বিশ্বস্ততা, অপরিমেয় দয়া ও মহৎ গুণের জন্য মহানবী (সা.) সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হিসেবে অভিষিক্ত। বিশ্বের ইতিহাসে সর্বপ্রথম লিখিত সংবিধান ‘মদিনা সনদ’ ছিল তার বিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতার প্রকৃষ্ট দলিল। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, আজকের দ্বন্দ্ব-সংঘাতময় বিশ্বে প্রিয়নবী (সা.)-এর অনুপম শিক্ষা অনুসরণের মাধ্যমেই বিশ্বে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ নিশ্চিত হতে পারে।

কর্মসূচি :ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে যথাযথ মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালনের জন্য সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। ধর্ম মন্ত্রণালয়ও পৃথক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। গতকাল থেকে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন বাদ মাগরিব বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পূর্ব সাহানে ওয়াজ ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হবে। দেশবরেণ্য পীর-মাশায়েখ ও ওলামায়ে কেরাম মাহফিলে বয়ান করবেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ বেতারের সঙ্গে যৌথ প্রযোজনায় ২১ থেকে ২৭ নভেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী মহানবীর (সা.) জীবন ও কর্মের ওপর সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম মিলনায়তনে বাদ আসর অনুষ্ঠেয় ওই সেমিনার রেকর্ডিং করে বাংলাদেশ বেতার ‘ক’ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন রাত ১০টা ১৫ মিনিটে প্রচার করা হবে।

বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর সাহানে ইসলামী ক্যালিগ্রাফি, মহানবীর জীবনীভিত্তিক পোস্টার ও গ্রন্থ প্রদর্শনী হবে। প্রতিদিন দুপুর দেড়টা থেকে রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত প্রদর্শনী দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে। পাশাপাশি বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ চত্বরে আজ বুধবার থেকে মাসব্যাপী ইসলামী বইমেলা শুরু হচ্ছে। মেলায় কোরআন-হাদিসসহ বিভিন্ন ইসলামী বই বিশেষ কমিশনে পাওয়া যাবে। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মেলা দর্শনার্থীদের জন্য খোলা থাকবে।

এদিকে, জাতীয় প্রেস ক্লাবে আজ বাদ আসর মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।