সাতক্ষীরায় আমন ধানের বাম্পার ফলন : দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা


188 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় আমন ধানের বাম্পার ফলন : দাম নিয়ে শঙ্কায় কৃষকেরা
নভেম্বর ২৪, ২০১৮ কৃষি ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার ::

আমন ধানের সোনালী শীষ দোল খাচ্ছে সাতক্ষীরা জেলার মাঠে মাঠে। পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের রোগ-বালাইয়ের আক্রমণের মধ্যেও বেড়ে ওঠা সোনালী ধানের শীষে ভরে গেছে মাঠ। সামান্য ভয়ের মাঝেও আনন্দে ভরে উঠেছে কৃষকের মন। দিগন্তজোড়া সোনালী ফসলের মাঠ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে আরও বিকশিত করে তুলেছে। ভালো ফলনের সম্ভাবনা থাকলেও স্বস্তিতে নেই সাতক্ষীরার কৃষকেরা। সেচ, কীটনাশক, শ্রম খরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখতে পারবেন কী না তা নিয়ে কৃষকের মাঝে রয়েছে শঙ্কা। সাতক্ষীরা জেলা কৃষি বিভাগের হিসেব মতে চলতি বছরে সাতক্ষীরার ৭টি উপজেলায় ৮৪ হাজার ৯৫৭ হেক্টর জমিতে এবার আমন ধানের আবাদ করা হয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় ১৮ হাজার ৩৫০ হেক্টর, কলারোয়া উপজেলায় ১১ হাজার ১৫০ হেক্টর, তালা উপজেলায় ৭ হাজার ৯৫০ হেক্টর , দেবহাটা উপজেলায় ৫ হাজার ২৮০ হেক্টর ,কালিগঞ্জ উপজেলায় ১৬ হাজার ৯২০ হেক্টর , আশাশুনি উপজেলায় ৯ হাজার ১৩০ হেক্টর এবং শ্যামনগর উপজেলায় ১৬ হাজার ১৭৭ হেক্টর জমিতে। তবে জেলা সদরসহ প্রত্যেকটি উপজেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী ধান আবাদ হয়েছে। সামনে নির্বাচন হওয়ায় ধানের দাম নিয়ে শঙ্কায় আছে কৃষক। এ বছর বৃষ্টি একটু কম থাকার কারণে ক্ষেতে পোকামাকড় এবং রোগ-বালাই নেই বললেই চলে। যে কারণে কৃষি বিভাগ আমনের বাম্পার ফলনের আশা করছে। মাঠ ভরা সোনালী ফসল দেখে কৃষকের চোখে-মুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের হাসি। তাদের স্বপ্ন এখন দোল খাচ্ছে আমন ধানের সোনালী শীষে। কৃষকরা বলছেন, এর মধ্যে যদি কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না ঘটে এবং ফসলের দাম ঠিক পায় তাহলে এবার আমন আবাদে তারা বেশ লাভবান হবেন। তবে ধানের দাম নিয়ে তাদের শঙ্কাও রয়েছে। কৃষকেরা আরো বলছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে গত বোরো আবাদ ঠিকমতো ঘরে তুলতে পারেননি তারা। তাই সিংহভাগ কৃষক ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমন ধান চাষাবাদ করেছেন। তাছাড়া এ বছর আমন মৌসুমে বৃষ্টি না হওয়ায় সেচের পানি দিয়ে ক্ষেত রক্ষা করতে হয়েছে। এর জন্য বাড়তি শ্রম খরচও গুনতে হয়েছে তাদের। যে কারণে তাদের সকল স্বপ্ন এখন আমন ধানের উপর। তাই মাঠের সোনালী ফসল দেখে হতাশ কৃষককুল অনেকটা স্বস্তিতে। তবে উৎপাদিত ধান ঘরে তোলার পর কাঙ্খিত দাম পাবেন কী না তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় ভুগছেন সাতক্ষীরার কৃষকেরা। আর তাদের সেই শঙ্কা অবশেষে সত্যি হলো। এই বছর ২৮ ধানের বস্তা প্রতি ১২০০টাকা, জামাইবাবু ৯০০ টাকা, গুটিস্বর্ণ ৯২০ টাকা, চিনি কানায় ২০০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। অথচ বস্তা ধানের উৎপাদন খরচ তার থেকে অনেক বেশি। ধানের ব্যাপারিরা ধান কিনতে চাইছে না। ধান বিক্রির টাকাও ঠিক মত দিচ্ছে না। এ দিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যাপারি বলেন, মিলের মালিকরা ঠিকমত ধান নিচ্ছে না। সামনে নির্বাচন এর জন্য সব মিল মালিকের মধ্যে এক অজানা শঙ্কা কাজ করেছে তাই জন্য হয়ত এই অবস্থা। ধানের দাম সম্পর্কে জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠে এখনও কোথাও কোথাও সোনালী ধান দোল খাচ্ছে। প্রাই সব এলাকার জমিতে ধান কাটা শুরু হয়েছে। এসব ধান আগাম জাতের হওয়ায় কৃষক আগেই ঘরে তুলছেন। সদর উপজেলার ঝিটকি মাঠের কৃষক বোদ্দ নাথ জানান, এবছরে আমন ধান গতবারের চেয়ে ভালো হয়েছে। এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে বলে তিনি আশা করেন। তবে ধানের দাম নিয়ে তিনি দুচিন্তায়। তিনি বলেন ধানের যে দাম যানা যাচ্ছে,ততে আমাদের লাব তো দূর উৎপাদন খরচই উঠবে না। এদিকে সার ,কীটনাশক ব্যবসায়ীরাও আছেন দু:চিন্তায়। কারণ ধানের দাম খারাপ হলে তাদের ব্যবস্যা ভাল থাকে না। কলারোয়া উপজেলার কেরালকাতা এলাকার কৃষকেরা বলেন, গত বোরো মৌসুমে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে আমাদের অনেক লোকসান হয়েছে। ফলন দেখে মনে হচ্ছে আমন ধান থেকে সেই ক্ষতি কিছুটা হলেও পূরন হবে। সামনে ধান বাজারে ওঠার উপযুক্ত সময়ে যদি সঠিক দাম না পাই তাহলে আমরা সামনে আমন আবাদ করবো কী না সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তালা উপজেলার কৃষকেরা বলেন, ভালো ফলন দেখা যাচ্ছে। তবে ধানের দাম নিয়ে যত ভয় আমাদের।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আব্দুল মান্নান বলেন, আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আমরা মাঠ পর্যায়ে সকল ধরনের কাজ করে যাচ্ছি। তাই আশা করি বিগত মৌসুমের মতো এবারও আমন ধানের বাম্পার ফলন হবে। তবে ধানের দামের ব্যাপারে তিনি কোন কথা বলেন নি।