সাতক্ষীরায় তীব্র শীতের আগমনী বার্তা


421 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরায় তীব্র শীতের আগমনী বার্তা
ডিসেম্বর ১৭, ২০১৮ ইতিহাস ঐতিহ্য ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

*পৌষ এর শুরুতে ’’পিথাই’’ এর প্রভাবে হালকা বৃষ্টি ও শৈত প্রবাহে  তীব্র শীতের আগমনী বার্তা

স্টাফ রিপোর্টার ::

পৌষের শুরুতে ’’পিথাই’’ প্রভাবে বাড়তে শুরু করেছে শীতের তীব্রতা। উল্লেখ্য গত শানি বার রাতে বঙ্গপোসাগরে সৃষ্ট গভীরা নিম্মচাপটি ঘনীভূত হয়ে ঘূর্নিঝড়ে পরিনত হয়েছে। আর এই ঘূর্নিঝড়টির নাম দেয়া হয়েছে ’’পিথাই’’। আর এই ’’পিথাই’’ এর প্রভাবে সোমবার সারা দিন গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি সাথে শৈত প্রবাহ শুরু হয়েছে সাতক্ষীরায়।

শীত যেন যাপটে বসেছে জনজীবনে। হীমেল হাওয়া যেন মানব শরীরের হাড়ে কাপুনি ধরিয়ে দিচ্ছে। কথায় বলে পৌষের শীতে বাঘ কাপে। এই কথাটি যেন বাস্তবে রুপ লাভ করছে হালকা বৃষ্টি ও শৈত প্রবাহের কারণে। শীতের কাপড় ছাড়া কেউ বাইরে বের হতে পারছে না। রিকশা ওয়ালা, ভেন ওয়ালা সহ নিম্ম আয়ের মানুষের জীবণে এর প্রভাব পড়েছে সবথেকে বেশি। অনেকে আবার শাজাল বা আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবরনের চেষ্টা করছে। বিশেষ যারা দিনমুজুরের কাজ করে তার পড়েছে বিপাকে। শীতের প্রভাবে মানুষজন ঘর থেকে বের হতে পারছে না। চাষীরা তীব্র শীতের মধ্যেও বীজ তলা তৈরি ও ধানের পাতা ফেলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ঝিটকি এলাকার চাষী বোদ্দ নাথ বলেন সকাল বেলা জমিতে কাজ করতে গেলে হাত পা যেন বরফ হয়ে যায়। এই সময় বীজতলা তৈরি না করলে আমরা পিছিয়ে পড়ব তাই খুব কষ্ট করে হলেও আমাদের কাজ করতে হচ্ছে। তাছাড়া এই শীতে জন পাওয়া যায় না। শহরের জনজীবনও যেন স্থবির হয়ে পড়েছে। যে সকল মানুষ সকাল বেলা হাটতে বের হয় তারা পড়েছে আরও সমস্যায়। প্রচন্ড শীতের কারণে তারা সকাল বেলা ঠিকমত হাটতে পারছে না। ঘন কুয়াশা যেন শীতের প্রকোপ বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুনে। ঘন কুয়াশার কারণে রাস্তা ঘাটে গাড়ী চলাচলে খুব সমস্যা হচ্ছে। বিশ হাত দূরের কোনকিছু যেন দেখা যাচ্ছে না। গাড়ী গুলো হেড লাইট জ্বালিয়ে খুব সাবধানে চলাচল করছে।

তবে সব কিছুর মধ্যে শীতের পোশাকের দোকানে ক্রেতাদের ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সাবথেকে বেশি ভীড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে ফুটপাতের দোকান গুলোতে। নিম্ম আয়ের মানুষেরা সাধারণত তাদের শীতের কেনাকাটা করে ফুটপাতের দোকান গুলোতে। শিশু, বৃদ্ধা,নারী পুরুষ সব বয়সের মানুষের আনাগোনা বেড়েছে এই শীতের কাপড়ের দোকান গুলোতে। এসব দোকানে ২০টাকা থেকে শুরু করে পোষাক ভেদে ১৫০০টকা বিক্রি হচ্ছে শীতের কাপড়। তাদের বিক্রি সম্পর্কে জানতে চাইলে অলআমিন হোসেন নামে এক স্থানীয় দোকানদার বলেন শীতের তীব্রতা বৃদ্ধির সাথে সাথে তাদের বিক্রি বেড়েছে বহুগুনে। এই রকম শীত পড়লে সামনে আরও বেচাকেনা বাড়বে আশ করছি। শীতের প্রভাবে নবজাতক ও শিশুরা নানা রকম ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে খোজ নিয়ে জানা যায় শীতের তিব্রতার সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে ঠান্ডা জনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে নবজাতক ও শিশু ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে। শ্বাসকষ্ট ও নিউমনিয়া রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা সবথেকে বেশি। সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের সাবেক সিভিল সার্জন ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন শীতের কারণে সাধারণত শ্বাসকষ্ট ও নিউমনিয়া রোগের প্রকোপ বাড়ে। বিশেষ করে নবজাতক,শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের সমস্যা সব থেকে বেশি। তাই এই সময় যথাসম্বভ ঠান্ডা কম লাগাতে হবে। শীতের জন্য গরম কাপড় ব্যবহার করতে হবে। শ্বাসকষ্টের রোগীরা হালকা গরম পানি পান করতে পারেন। এদিকে শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে শহরে বাড়তে শুরু কারেছে খেজুর রসের আমদানী।

উল্লেখ্য খেজুর রসের জন্য সাতক্ষীরা খুব বিখ্যাত। খেজুর গাছের রসের ভাড় সাইজ ভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এদিকে শহরের বিভিন্ন স্থনে পাওয়া যাচ্ছে শীতের পিঠা পুলি। শহরের আনাছে কানাছে বিক্রি হচ্ছে পাকান পিঠা,ভাপা পিঠা,জামাই পিঠা সহ নানা রকম পিঠা পুলি। নানা বয়সের মানুষ ভিড় করছে সেসব ভ্রাম্যমান পিঠার দোকানে। এছাড়া শীতের সকল রকম তরকারীর আমদানী বেড়েছে বাজারে। শীতের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে কমতে শুরু করেছ শীতের সবজীর দাম। তবে বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কম লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে সব কিছুর উদ্ধে শীত আমাদের জীবনে ভাল কিছু বয়ে আনবে এটাই সবার আশা।

##