স্টাফ রিপোর্টার ::
কোরবানি ঈদ সামনে রেখে আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়নে পশু চুরির হিড়িক পড়েছে। প্রতি রাতে কোন না কোন জায়গা থেকে হাঁস-মুরগি গরু ছাগল ভেড়া চুরি হচ্ছে। ফলে চোরা আতঙ্ক বিরাজ করছে ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের মধ্যে।
স্থানীয়রা জানায় , গত ১০-১২ দিন আগে থেকে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় রাত গেলেই চুরির উপদ্রব্য ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে তুয়ারডাঙ্গা গদাইপুর ঘুঘুমারি, কাঠামারী, লাউতাড়া, খালিয়া, চেউটিয়া, নয়াবাদ পিরোজপুর খাজরা সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরছে এসব ঘটনা। শুধু তাই নয় প্রতিনিয়ত অন্যের ভাবে মাছ লুটতরাজ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দাবি অভিভাবকহীন খাজরা ইউনিয়ন পরিণত হয়েছে।
সরোজমিনে ঘুরে এলাকাবাসী জানায়, গদাইপুর গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে তুহিনের দুটি গরু, একই গ্রামের লুৎফর রহমানের একটি গরু, কানাইলাল মাস্টারের একটি গরু, মইনুদ্দিন মোল্লার একটি ছাগল, আলমগীর মোল্লার একটি ছাগল, খোকন শেখের একটা ছাগল,কাঠামারী গ্রামের বিশ্বনাথ একটি গরু, তুয়ারডাঙ্গা গ্রামের গফফার সানার তিনটা গরু, আমিরুল মোল্লা চারটা রাজহাঁস, সুরেরাবাদ গ্রামের ভোলানাথের একটি রাজহাঁস, ঘুঘুমারি গ্রামের দুর্গা পদোর তিনটা মুরগি, বিকাশ সানার একটা রাজহাঁস সহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্যায় ভাবে বাগদা মাছ চুরির অভিযোগ রয়েছে। ফলে এলাকা জুড়ে চোরা আতঙ্ক বিরাজ করছে।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খাইরুল ইসলাম জানায়, খাজরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এস এম শাহনেওয়াজ ডালিম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে খাজরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ গ্রহণ করেন । এরপর নির্বাচনের অংশগ্রহণ করে অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। একদিকে কুরবানি ঈদ সামনে রেখে অপার দিকে অভিভাবকহীন খাজরায় বেড়েছে ব্যাপক পশু সহ বিভিন্ন চুরির হিড়িক। ফলে আমরা জনপ্রতিনিধিরাও আতঙ্কে আছি।
খাজরা ইউনিয়নের (ভারপ্রাপ্ত) চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু জানায়, আমি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মাত্র ১০-১২ দিন হল দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। এলাকায় ব্যাপক চুরি হচ্ছে স্বীকার করে তিনি জানান বিষয়টির স্থানে প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।
আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার অধিকারী জানান, খাজরা ইউনিয়নের চুরির ঘটনায় কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।