আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে : কলেজ ছাত্রী মুন্নীর পিতা-মাতার অভিযোগ


1473 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
আমার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, তাকে হত্যা করা হয়েছে : কলেজ ছাত্রী মুন্নীর পিতা-মাতার অভিযোগ
আগস্ট ৩, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শ্যামনগর
Print Friendly, PDF & Email

নুরুজ্জামান রিকো :
আমার কলেজ ছাত্রী মেয়ে মুন্নী আত্মহত্যাা করেনি। সে তার শ্বশুরের অনৈতিক কাজে সাড়া না দেওয়ায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

মেয়ে মুন্নী খাতুনের মা ও বাবা দুজনেই এই অভিযোগ করে বলেন, তার লাশ কবর থেকে তুলে ময়না তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানিয়ে আদালতে মামলা করা হয়েছে।

এদিকে এই মামলার খবর শুনে প্রতিপক্ষ এখন নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। মামলা তুলে না নিলে আরও লাশ হতে হবে বলে শাসিয়েছে টেলিফোনে।

বুধবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়ের মৃত্যুর করুণ কাহিনী এভাবেই তুলে ধরেন মা নাসিমা বেগম, বাবা সিদ্দিকুল ইসলাম ও ফুফু দেলোয়ারা খাতুন।

লিখিত বক্তব্যে তারা বলেন, আমাদের মেয়ে মুন্নী খাতুনকে তার শ্বশুর ফরিদউদ্দিন প্রায়ই কুপ্রস্তাব দিতো। একথা সে আমাদের জামাতা শিমুল গাজি ও আমাদের কাছে জানিয়েছে কয়েকবার। গত ২৮ জুলাই দিনের বেলায় বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে শ্বশুর আমাদের মেয়ের ওপর চড়াও হয়। এতে সে ঘোর আপত্তি জানায়। এ সময় তার গলায় ওড়না পেচিয়ে তাকে হত্যা করে  তার শ্বশুর।

তারা জানান, খবর পেয়ে শ্যামনগর উপজেলার উত্তর কদমতলার ওই বাড়িতে গেলে মুন্নীর ঝুলন্ত লাশ দেখতে পাই। লাশের পা মেঝেতে পাতানো ছিল। ঘরের আড়ায় ওড়না দিয়ে ঝুলানো হলেও তার মাথার চুলের গোছা ছিল স্বাভাবিক। মনে হতেই পারে সে দাঁড়িয়ে রয়েছে। দেখে সবাই বলেছেন এ কেমন আত্মহত্যা। কেউ বিশ্বাস করেনি এটা আত্মহত্যা হতে পারে। নাসিমা খাতুন ও সিদ্দিকুল ইসলাম বলেন মেয়েকে হারিয়ে আমাদের মাথা ঠিক ছিল না। পুলিশ বাবা সিদ্দিকুল ইসলামের একটি কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে। পরে ময়না তদন্ত  না করেই মুন্নীর লাশ নিয়ে দাফন করা হয় তার বাপের বাড়ি কদমতলায়।
তারা জানান মুন্নীর এ মৃত্যুকে তার সহপাঠী মুন্সিগঞ্জ কলেজ শিক্ষার্থীরা মেনে নেয়নি। তারা এলাকায় মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে তারা। তার লাশ তুলে ময়না তদন্ত করার দাবি জানিয়েছে সহপাঠীরা। মুন্নীর মা জানান, সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে  গত ২ আগস্ট একটি মামলা করেছেন বাবা সিদ্দিকুল। এতে মুন্নীর লাশ তুলে ময়না তদেন্তের আবেদন জানানো হয়েছে। তিনি হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন।

এদিকে মামলার খবর জানাজানি হবার পর গত মঙ্গলবার ০১৯৫২৮৮৬০৯ নম্বর থেকে সিদ্দিকুলের কাছে একটি টেলিফোন আসে। এত বলা হয় মামলা করে ভালো কাজ করেন নি। মামলা তুলে নিন, না হলে পানি অনেক দুর পর্যন্ত গড়াবে। যিনি ফোন করেছেন তিনি নিজেকে শ্যামনগর থানার একজন উপ সহকারি পরিদর্শক (এএসআই) লিটন বিশ্বাস বলে পরিচয় দেন।

জানতে চাইলে লিটন বিশ্বাস সাংবাদিকদের বলেন, মৃত্যুর পর মেয়েটির সুরতহাল রিপোর্টসহ অন্যান্য সকল আইনি কাজ সম্পন্ন করা হয়। এরপর অভিভাবকদের কাছে জানতে চাওয়া হয় ময়না তদন্তের বিষয়। কালিগঞ্জের এএসপি সার্কেল মো.সালাহউদ্দিন, শ্যামনগর থানার ওসি মো. এনামুল হক মেয়ের বাবার কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ময়না তদন্ত করে কাটা ছেঁড়ার দরকার নেই। তিনি এ সংক্রান্ত কাগজপত্র ও দেড়শ টাকার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে দেন। এর পরই ময়না তদন্ত ছাড়াই কবর দেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় বলে জানান তিনি।

মেয়েটির বাবা মা বলেন, এখন বুঝেছি ময়না তদন্ত না করিয়ে ভুল হয়েছে। তবু লাশটি উত্তোলন করে তার ময়না তদন্ত করা হোক। এতে প্রমানিত হবে তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি। তাকে হত্যা করা হয়েছে। এটা যদি হত্যা না হবে তাহলে বাড়ি শুদ্ধ সবাই পালাবে কেনো-প্রশ্ন করেন সিদ্দিকুল ও নাসিমা। তারা জানান ঘটনার পর থেকে ফরিদউদ্দিন, তার স্ত্রী মাহফুজা খাতুন ও তাদের ছেলে শিমুল বাড়ি ফেলে পালিয়ে গেছে।

কদমতলার সিদ্দিকুলের মেয়ে কলেজ ছাত্রী মুন্নীর সাথে এক বছর আগে বিয়ে হয়েছিল উত্তর কদমতলার ফরিদউদ্দিন এর ছেলে শিমুল গাজির। বিয়ের পর থেকে সুযোগ বুঝে মেয়েটির শ্বশুর তাকে কু প্রস্তাব দিয়ে আসছিল বারবার। কিন্তু মুন্নী সাড়া দেয়নি বরং তা প্রত্যাখ্যান করে  আমাদের বলে দিতো- জানালেন ওর মা নাসিমা খাতুন।