নিম্মমােনর খোয়া, বালি ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট দিয়েই ঢালাই হলো কপিলমুনি হাসপাতালের ছাদ


961 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
নিম্মমােনর খোয়া, বালি ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট দিয়েই ঢালাই হলো কপিলমুনি হাসপাতালের ছাদ
আগস্ট ২৪, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি :
নিম্মমােনর খোয়া, বালি ও অপর্যাপ্ত সিমেন্ট দিয়েই ঢালাই দেওয়া হলো কপিলমুনি ১০শয্যা সরকারী হাসপাতালের ছাদ। প্রকাশ্য দিন দুপুরে এমন পুকুর চুরি ঘটলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি কর্তৃপক্ষ। সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান কর্র্তৃপক্ষ বলেছেন লিখে লাভ নেই।
সরেজমিনে দেখা যায়, খুলনার ঐতিহ্যবাহী বাণিজ্যিক শহর কপিলমুনির স্থপতি স্বর্গীয় রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধু কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত ভরত চন্দ্র হাসপাতাল, যা সরকারি খতিয়ানে নাম কপিলমুনি সরকারি হাসপাতাল। জরাজীর্ণ এই হাসপাতালটির দ্বিতল ভবনের ছাদ সংস্কারে প্রায় ১৮ লাখ টাকার টেন্ডার হয়। প্রায় ৩ মাস মাস পূর্বে সংস্কার কাজ শুরু করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেঘনা গ্রুপ, যশোর। আর সেই থেকেই চলে আসছে লাগামহীন অনিয়ম সহ পুকুর চুরির ঘটনা। সম্প্রতি  নিম্মমােনর মালামাল সামগ্রী সহ ব্যাপক অনিয়মের মধ্য দিয়ে ছাদ ঢালাই এর কাজ করতে থাকে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এসময় স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানান কিন্তু তাতে কোন কর্ণপাত করেন না ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানটির নিয়োগ করা কর্তা। এক পর্যায়ে এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের বিক্ষোভের মুখে সাময়িকভাবে ঢালাই বন্ধ হলেও পরবর্তীতে আবারো ঢাইল কাজ সারা হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ঠিকাদারির স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম বা নির্মাণ কাজে ব্যাপক দূর্ণীতির কারণে যে কোন সময় নির্মাণ করা ছাদ ধ্বসে প্রানহানীর ঘটনা ঘটতে পারে। তারা আরো বলেন, ঠিকাদারের লোকজন ৮ টা খোয়া সহ সমপরিমান বালি মিশিয়ে ১ বস্তা সিমেন্ট দিয়ে যেনতেন ভাবে ছাদ ঢালাই দিয়েছে।
এদিকে হাসাপতালের ২ তলার ছাদটি অপরিকল্পিতভাবে ভাঙ্গার সময় ভাঙ্গা অংশ পড়ে ১তলার ছাদের একটি বড় অংশ ফাটল ধরে। যে ফাটল দিয়ে পানি পড়তে দেখা যায়।
এব্যাপারে কপিলমুনি হাসপাতাল সংস্কার কাজে নিয়জিত  ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান যশোরের ‘মেঘনা গ্রুপ’ এর ম্যানেজার সোহাগ বলেন, আমারা কাজ সঠিক করেছি, আপনারা লিখে কি করবেন, লিখে লাভ হবে না, শুধু শুধু আপনার কষ্ট হবে।
এমনিভাবে কপিলমুনি হাসপাতাল সংস্কার কাজে নিয়জিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের পক্ষে অনিয়মের কাজের প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। গতকাল সকাল ১০ টায় কপিলমুনি হাসতালের সামনে দাঁড়িয়ে  পথচারী আমীর শেখ জানান, ‘প্রায় ৩ লক্ষ মানুষের চিকিৎসা সেবায় নিয়োজিত কপিলমুনি হাসপাতালটি সংস্কার কাজে এমন অনিয়ম আগে কখনো দেখিনি, বিষয়টি রীতিমত আমাদের হতবাক করেছে’। এব্যাপারে অনিয়মের মধ্যদিয়ে তৈরী ওই ছাদটি অপসারণ ও  ঠিকাদার নিয়োগ করে ছাদ পুণঃনির্মাণের জন্য খুলনা জেলা প্রশাসকের নিকট জোর দাবী জানিয়েছেন তারা।